হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘হে আমাদের রব! এই যালিম নগরী থেকে আমাদের বের করে নাও, আমাদের জন্য একজন অভিভাবক ও সাহায্যকারী নিযুক্ত করো’—আজও সীমান্তের ওই মায়ের আর্তনাদ, উদ্বাস্তু শিশুর ক্ষুধার্ত চোখ, উচ্ছেদ হওয়া লক্ষ পরিবারের বেদনা যেন সরাসরি এই কুরআনি আয়াতের প্রতিধ্বনি। আল্লাহ মুস্তায‘আফদের মুক্তির জন্য জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইমাম মাহদী (আ)-এর নেতৃত্বে তাদের বিশ্ব-বিজয় ও ন্যায়ের শাসনের। অত্যাচারীদের পতন অনিবার্য; মুসলমানদের এখন কর্তব্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, মজলুমের পাশে দাঁড়ানো, আর মাহদীর আবির্ভাবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। আল্লাহর এই অঙ্গীকার যেন প্রতিটি মুমিনের প্রেরণা হয়ে উঠুক।
وَمَا لَكُمۡ لَا تُقَٰتِلُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلۡمُسۡتَضۡعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلۡوِلۡدَٰنِ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخۡرِجۡنَا مِنۡ هَٰذِهِ ٱلۡقَرۡيَةِ ٱلظَّالِمِ أَهۡلُهَا وَٱجۡعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيࣰّا وَٱجۡعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا - آیه 75 سوره نساء
তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর পথে এবং মুস্তায'আফ পুরুষ,নারী ও শিশুদের মুক্তি দেওয়ার জন্য যুদ্ধ করছ না যারা বলছে:হে আমাদের পালনকর্তা (রব)! এই নগর ও জনপদ যার অধিবাসীরা যালেম তা থেকে বাইরে (নিরাপদ কোনো স্থানে) বের করে নিয়ে যান এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক (ওয়ালী) নিযুক্ত করে দিন এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্য কারী নিযুক্ত করে দিন। (সূরা-ই নিসা:৭৫)
https://quran.inoor.ir/fa/ayah/4/75/translate
شما را چه شده كه در راه خدا و [براى نجات ] مردان و زنان و كودكانِ مستضعف نمىجنگيد؟ همانان كه همواره مىگويند:پروردگارا، ما را از اينشهر [مكّه] كه اهلش ستمكارند، بيرون بر و هم از جانب خود سرپرستى براى ما قرار ده و هم براى ما از نزد خود ياورى قرار ده
এই আয়াতে মুস্তায'আফীনের (দুর্বল করে রাখা,নিপীড়িত নির্যাতিত,অত্যাচারিত, নিগৃহীত লাঞ্ছিত নারী,পুরুষ ও শিশুদের)
মিসদাক অর্থাৎ বাস্তব নমুনা কি সীমান্তে ক্রন্দনরত এই মা নয় কি যে বলছে:"এভাবে ফেলায় রাখিয়েন না, বাচ্চাগুলা মরে যাবে!"
****
আল্লাহ সকল উদ্বাস্তু ও শরণার্থী (আওয়ারা)কে তাদের উচ্ছেদ কৃত বাসস্থান ও ঘরবাড়ী সমূহে আবার ফিরিয়ে আনুন ও পুনর্বাসন করুন।
এই উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের জীবন খুবই বেদনাবিধুর,দুর্বিসহ ও অত্যন্ত কষ্টকর।আমরা এই দুর্বিসহ উদ্বাস্তু জীবন থেকে পানাহ চাচ্ছি। দুনিয়ার সকল মুস্তায'আফকে আল্লাহ পাক নাজাত ও মুক্তি দিন।
*
এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় দায়িত্ব কী? আমাদের সবার অবশ্য করণীয় দায়িত্ব উক্ত আয়াতে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে।আর তা হলো মুস্তায'আফ জনতাকে আযাদ ও মুক্ত করার জন্য জিহাদ ও যুদ্ধ।
মহান আল্লাহ শেষ যামানায় ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে (আ) বিশ্বের মুস্তায'আফ জনতাকে শাসন কর্তৃত্ব দেবেন এবং তাদেরকে এ যমীনের ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী)করবেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে:
و نرید أن نمنّ علی الذین استضعفوا في الأرض و نجعلهم أئمّة و نجعلهم الوارثین.
و ما می خواستیم به آنان که در آن سرزمین به ناتوانی و زبونی گرفته شده بودند، نعمت های با ارزش دهیم، و آنان را پیشوایان مردم و وارثان [اموال، ثروت ها و سرزمین های فرعونیان] گردانیم.
আমরা চাই যারা পৃথিবীতে অত্যাচারিত ও নিপীড়িত-নির্যাতিত হয়েছে তাদের ওপর করুণা করতে, তাদেরকে নেতা (ইমাম) বানাতে; আর তাদেরকেই যমীনের ওপর উত্তারাধিকারী করতে (সূরায়ে ক্বাসাস:৫)
যদিও এ আয়াতটি ইমাম মাহদীর (আ) আবির্ভাব ও আত্মপ্রকাশ, তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী সকল ধর্মের ওপর ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় এবং সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বিচার ও ন্যায়ের শাসন ও সরকারের প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত তবুও এ আয়াতে আল্লাহ ইমাম মাহদীর (আ) মাধ্যমে মুস্তায'আফ জনতার মহা মুক্তি ও বিজয় এবং কাফির মুশরিকদের ধন-সম্পদের উত্তরাধিকারী যে মুস্তায'আফ জনতা হবে তা ব্যক্ত করেছেন।
অত্যাচারী যালেমদের উচিত জেনে রাখা যে তাদের সকল অন্যায়,অবিচার ও অত্যাচারের চূড়ান্ত অবসান হবে রাসূলুল্লাহর (সা) অতি নিকটাত্মীয় ও বংশধর আহলুল বাইতের (আ) বারো মা'সূম ইমামের শেষ মা'সূম ইমাম অর্থাৎ দ্বাদশ মাসূম ইমাম হযরত মাহদীর (আ) মাধ্যমে।
মুসলমানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে অন্যায়,দুর্নীতি,অবিচার,অনাচার,অত্যাচার,শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিরোধ সংগ্রাম ও জিহাদ এবং ইমাম মাহদীর (আ) শুভ আবির্ভাব ও আগমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।আর এ কাজ করা অত্যাবশ্যক ও ফরয।
মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান।
আপনার কমেন্ট